International Coastal Cleanup | 2023

সবুজের অভিযানে দুই দিন…

সিরাজুল ইসলাম আবেদ

প্রকাশ : ১৬ মিনিট আগে


আমাদের গন্তব্য ছিল সেন্টমার্টিন দ্বীপ। ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’ বাধ্য করে কক্সবাজার যেতে। সাগরের লঘুচাপ যে এত দ্রুত নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ঘূণিঝড়ে রূপ নেবে, তা ছিল আমাদের ধারণারও বাইরে। ইন্টারন্যাশনাল কোস্টাল ক্লিনআপ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজক ‘কেওক্রাডং বাংলাদেশ’-এর সঙ্গে আমাদের এই যাত্রা শুরু হয়েছিল ঢাকা থেকে ১৬ নভেম্বর রাতে। প্রায় ৪০ জনের টিমের অধিকাংশই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। আয়োজকদের সঙ্গে আমরা কিছু পেশাজীবীও যুক্ত হয়ে যাই। উদ্দেশ্য সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য পরিষ্কার করা। কেওক্রাডং বাংলাদেশ ২০০৫ সাল থেকে কাজটি করে আসছে। 

Google News গুগল নিউজে প্রতিদিনের বাংলাদেশ”র খবর পড়তে ফলো করুন

পথমাঝে খবর এলো, বঙ্গোপসাগরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেওয়া হয়েছে। সব ধরনের নৌ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় আমাদের নির্ধারিত জাহাজটিও চলবে না। দলনেতা মুনতাসির মামুনের সিদ্ধান্তে রাত সাড়ে ৪টায় আমরা পৌঁছালাম কক্সবাজার। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ঝোড়ো বাতাস, বৃষ্টির মধ্যেই ১৭ ও ১৮ নভেম্বর কক্সবাজারের ইনানী ও লাবণী বিচ থেকে সংগ্রহ করা হলো বস্তা বস্তা প্লাস্টিক বর্জ্য। তরুণ্যে উজ্বল সবুজ স্বেচ্ছাসেবকরা উৎসব আমেজে সৈকত থেকে কুড়িয়ে আনল বস্তা-বস্তা প্লাস্টিক বর্জ্য। সিগারেটের ফিল্টার, ছোট চামচ, স্ট্র, পানি বা জুসের বোতল, বিভিন্ন রকম খাবারের প্যাকেট, প্লাস্টিক পাইপ থেকে শুরু করে একান্ত ব্যক্তিগত ব্যবহার্য বস্তু- কী নেই! বস্তায় ভরে সেগুলো নিয়ে আসা হলো হোটেল প্রাঙ্গণে। প্রকার ভেদে সটিং করে আলাদা করা হলো। সে এক কর্মযজ্ঞ।

স্বেচ্ছাসেবকরা উৎসব আমেজে সৈকত থেকে কুড়িয়ে আনল প্লাস্টিক বর্জ্য। 

বর্জ্য কুড়ানোর সময়, লাবণী সৈকত থেকে সুগন্ধা সৈকতের দিকে একটু এগোতেই দেখা গেল, একটি ভবণের সংস্কারকাজ চলছে। ভবণের সব বর্জ্য ফেলার জন্য তারা পেছনের সৈকতকেই বেছে নিয়েছে। ইট-সিমেন্টের সঙ্গে ফেলা হচ্ছিল, পিভিসি বোর্ড, পাইপ, এয়ারকুলারের পাইপলাইনের প্রোটেকশন কভার ইত্যাদি। শ্রমিকরা প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলছেন অন্যদিকে সঙ্গে থাকা মোজহারুল হক মঞ্জু ভাই রাগে গজগজ করতে করতে সেসব কুড়িয়ে বস্তায় ভরছিলেন। সেখানকার সব প্লাস্টিক বর্জ্য বস্তায় ভরে ফেরার পথে স্মৃতিচারণা শুরু করলেন, ১৯৭৭ সালে প্রথম দেখা কক্সবাজার। ‘তখন বিচ ছিল আরও উত্তরে। পাহাড়ের নিচ থেকে ছির সাগর। এসব বিল্ডিং কিছুই ছিল না। চারদিকে নীরবতা ভাঙত সাগরের ঢেউ।’ কথা বলতে বলতে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে তার।

আরও পড়ুনধরে নিই পরিচ্ছন্নতাকর্মী তো আছেই, এটা তাদের কাজ

দীর্ঘশ্বাস না ফেলে আর উপাই কী? যখন আমাদের হাতে এসে প্রতিনিয়ত জমা হয় এই প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ে ভয়াবহ সব পরিসংখ্যান। আমাদের আন্তঃসীমান্ত নদীপ্রবাহের মধ্য দিয়ে বঙ্গোপসাগরে কী পরিমাণ প্লাস্টিক দূষণ ঘটছে তা নিয়ে গবেষণা করেছে একটি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। ‘দ্য ট্র্যাজিক টেলস অব আওয়ার রিভারস : প্রসপেক্টস টু প্রবলেম’ শিরোনামে ওই গবেষণায় তারা দেখেছেন, দেশের ১৭টি আন্তঃসীমান্ত নদী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১৫ হাজার ৩৪৫ টন একবার ব্যবহৃত প্লাস্টিক বর্জ্য বঙ্গোপসাগরে এসে পড়ছে। সেই হিসেবে বছরে প্রায় ২৬ লাখ ৩৭ হাজার ১৭৯ টন প্লাস্টিক বর্জ্য বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ছে।

জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির এক সূত্রে জানা যায়, ১৯৫০ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত পৃথিবীতে প্রায় ৯ দশমিক ২ বিলিয়ন টন প্লাস্টিক উৎপাদন করা হয়েছে। ন্যাশনাল জিওগ্রাফির আরেক প্রতিবেদন বলছে ১৯৫০ সালে ২ দশমিক ৩ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক উৎপন্ন হয়, যা ২০১৫ সালে এসে দাঁড়ায় ৪৪৮ মিলিয়ন টন। আর্থডের সূত্রমতে পৃথিবীর জনসংখ্যার মোট ওজনের সমান প্লাস্টিক প্রতিবছর উৎপাদিত হয়।

আরও পড়ুনপাহাড় কেটে সড়ক সংস্কার

১৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় কেওক্রাডংয়ের আয়োজকরা প্রজেক্টরে দেখাচ্ছিলেন, সাগর উপকূলে এখন পর্যন্ত তারা কী ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য পেয়েছেন। সেখানে প্লাস্টিকের বোতল রয়েছে, রয়েছে চিপসসহ বিভিন্ন খাবারের প্যাকেট। আর সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় এদের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে সিগারেটের ফিল্টার। প্রথম দিন যা আমাদের চোখেই পড়েনি! পরদিন সৈকতে নেমে অবশ্য ভালোভাবেই ধাক্কা খেতে হয়েছে। সাগরের বালুর মধ্যে এত ফিল্টার লুকিয়ে আছে! অথচ আমরা লক্ষ্যই করিনি। তাহলে উপায় কী?

মুস্তাফিজ মামুন বলছিলেন সচেতনতার কথা। একমাত্র সচেতনতাই পারে প্লাস্টিকের এই মৃত্যুফাঁদ থেকে আমাদের বাঁচাতে। বাংলাদেশই প্রথম আইনগতভাবে পলিথিন নিষিদ্ধ করে। প্লাস্টিক দূষণ রোধে দশ বছর মেয়াদি এবং একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক বন্ধে তিন বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। নিষিদ্ধ পলিথিন শপিং ব্যাগের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল ২০২৩ পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৩ হাজার ৬৯২টি মামলা দায়ের হয়েছে। এত কিছুর পরও কমানো যাচ্ছে না প্লাস্টিক দূষণ। আর তাই, কী পরিমাণ প্লাস্টিক সাগর সৈকত থেকে তোলা হলো তার চেয়ে এখন জরুরি আমরা কতজনকে সচেতন করতে পারলাম সেটা। দৈনন্দিন কাজের ভেতরে এককালীন প্লাস্টিক সামগ্রীর ব্যবহার বর্জন, নিদেনপক্ষে যত্রতত্র না ফেলে সেটাকে সঠিক স্থানে ফেলার অভ্যাস করাতে পারাটাই জরুরি।

মুনতাসির বলছিলেন, ‘আমরা আসলে কাউকে পরিবর্তন করতে পারি না যতক্ষণ পর্যন্ত কেউ নিজে থেকে নিজের মধ্যে এই পরিবর্তন না নিয়ে আসতে চায়। আমরা আশা করি সবাই হয়তো করে। কিন্তু জোর গলায় কি বলতে পারব? না পারব না। কিন্তু আমি নিশ্চিত যারা একবারের জন্যও এই কাজ করেছেন তারা হয়তো সারা জীবন মনে রাখবেন ফেলে দেওয়া কোনো বর্জ্যকে তুলে নিয়ে আসাটা কতটা শক্ত।

এই কাজ যে আগে হতো না তা নয়। যেমন রাস্তাঘাট পরিষ্কার করার জন্য তো সিটি করপোরেশন আছে বা স্থানীয় সরকারের লোকবল আছে। কিন্তু আমরা যা করি বা শুরু করেছিলাম সেটা একেবারেই সমুদ্রকেন্দ্রিক। ইন্টারন্যাশনাল কোস্টাল ক্লিনআপের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো সারা পৃথিবীর উপকূলে কী ধরনের আবর্জনা পাওয়া যায় তার একটা পরিসংখ্যান দাঁড় করানো। বাংলাদেশে এই কাজটা খুব সম্ভবত আমরাই ২০০৫ সাল থেকে করে আসছি। এখনও চলছে।

ঢাকা ফেরার পথে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মঞ্জুর-ই-ইলাহি তূর্যকে জিজ্ঞেস করি কেমন লাগল এ দুই দিনের কার্যক্রম। একটু হেসে বলল, সেন্টমার্টিন যেতে না পেরে প্রথমে খারাপ লাগছিল কিন্তু এই দুই দিনে যা করলাম এবং শিখলাম সেটা সারা জীবন মনে থাকবে।’ প্রায় একই রকম কথা বললেন সুমাইতা ইসলাম- ‘আমাদের শুরুটা ছিল পিকনিক মুডে। কিন্তু দুই দিন বিচে যেটা করলাম এবং দেখলাম সেটা বিস্ময়কর। সিগারেটের ফিল্টার যে আমাদের পরিবেশের এতটা ক্ষতি করছে এখানে না এলে হয়তো জানাই হতো না।’

মুনতাসির মামুনকে প্রশ্ন করেছিলাম কেওক্রাডং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে। জবাবে বললেন, ‘চলতে থাকা। আমরা যা করছি সেটা আমরা সবাই করতে পারি। এর জন্য কোনো পারদর্শিতার প্রয়োজন হয় না। আপনি-আমি যে কেউ যেকোনো জায়গায় যেকোনো দিন এই কাজ করতে পারি। আমরা আশা করি হয়তো কোনো একদিন অনেকে আমরা নিজ নিজ উদ্যোগে কাজটা করতে থাকব। থামব না।’ আমাদেরও প্রত্যাশা প্লাস্টিক বর্জ্যের বিরুদ্ধে এই যাত্রা চলমান থাকুক। আমাদের সঙ্গে থাকা এই সবজুপ্রাণ তরুণেরা একদিন ঠিকই সবুজ পৃথিবী গড়বে।

On The Daily New Age

On Bdnews24.com


 

সাক্ষাৎকার: মুনতাসির মামুন

ধরে নিই পরিচ্ছন্নতাকর্মী তো আছেই, এটা তাদের কাজ

পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। পরিবেশ নিয়ে গবেষণা ও গণসচেতনতার জন্য পেয়েছেন ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের ‘কানেক্ট ফর ক্লাইমেট’, ব্রিটিশ কাউন্সিলের ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্লাইমেট চ্যাম্পিয়ন’, আলোকচিত্রী হিসেবে আইইউসিএনের ‘বায়োডাইভার্সিটি ইন ফোকাস’ ও ‘ইন্টারন্যাশনাল এইডস সোসাইটি’ পুরস্কার। ইন্টারন্যাশনাল কোস্টাল ক্লিনআপের বাংলাদেশ সমন্বয়ক মুনতাসির মামুন গড়ে তুলেছেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘কেওক্রাডং বাংলাদেশ’

Google News গুগল নিউজে প্রতিদিনের বাংলাদেশ”র খবর পড়তে ফলো করুন

প্রশ্ন : কিছুদিন ধরে কেওক্রাডং বাংলাদেশ সাগর উপকূলে পরিচ্ছন্নতার কাজ করে আসছে। সূচনাটা কীভাবে?

উত্তর : ২০০৫ সালে আমি জাপানে একটা এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে গিয়েছিলাম। সেখানে একজন শিক্ষকের কাছে জানতে পারি ইন্টারন্যাশনাল কোস্টাল ক্লিনআপের কথা। জাপান থেকে ফিরে ওশান কনজারভেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করি। বিশ্বজুড়ে ইন্টারন্যাশনাল কোস্টাল ক্লিনআপ পালিত হয় প্রতি সেপ্টেম্বরের প্রথম অথবা দ্বিতীয় ছুটির দিন। বাংলাদেশে যেহেতু সপ্তাহের ছুটি শুক্র ও শনিবার তাই আমরাও সেই দিনটিই বেছে নিই। প্রথম ক্লিনআপ করেছিলাম খুব ছোট আকারে, ২০০৫ সালে, এই কক্সবাজারে। এরপর ২০০৬ সালে কিছুটা বড় পরিসরে শুরু হয়েছিল কক্সবাজারেই।

প্রশ্ন : কাজ শুরুর পরের অভিজ্ঞতা জানতে চাই।

আরও পড়ুনসবুজের অভিযানে দুই দিন…

উত্তর : একদম শুরুর দিকে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছিল বলাই যায়। একদল মানুষ সৈকতের বালু ঘাঁটাঘাঁটি করছে, এটা দেখতে মানুষ জড় হতো। আমরা কে, কী করছি, এটা করে কী হবে? এ-জাতীয় প্রশ্নের সামনে আমরা পড়েছি। তবে এও সত্য, সবাই হয়তো আমাদের সঙ্গে যোগ দেননি কিন্তু মন্দও বলেননি। স্বেচ্ছাসেবী সংগ্রহ করাও কিছুটা কঠিন ছিল। এ টোকাইয়ের কাজে মানুষ পাওয়া শক্তই। আমরা বিভিন্ন জায়গায় কথা বলতে গিয়েছি স্বেচ্ছাসেবী সংগ্রহের জন্য। আমার স্কুলের স্কাউটগ্রুপের সদস্যরা এগিয়ে এসেছিলেন। আবার অনেকেই যোগ দিতে চেয়েও পারেননি। অর্থও একটা বড় ব্যাপার। আমরা শুরু করেছিলাম নিজের যা আছে তাই দিয়ে। পরে কোকাকোলার সঙ্গে কাজটি ১৩ বছর ধরে সেন্টমার্টিন দ্বীপে করছি। আমরা বেশ কিছু স্কুল শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে কাজটি করেছি বা এখনও করছি। ছোটরা আসলেও সহজ। এ ধরনের কাজে তাদের আগ্রহ বড়দের থেকে বেশি। এ আগ্রহটা সারা বছর ধরে রাখার জন্য শিক্ষকদের এগিয়ে আসা দরকার। তবে একটা কথা না বললেই নয়। অনেকের আগ্রহ থাকে কিন্তু চক্ষুলজ্জায় অংশ নেন না। তবে বর্তমান অন্যরকম। এখন অনেকেই এ কাজ করছেন। কাজের ধরনে পার্থক্য থাকতে পারে কিন্তু ফল একই।

প্রশ্ন : বঙ্গোপসাগর উপকূলের প্রধান বর্জ্য সম্ভবত প্লাস্টিক। এর পরিমাণ ও প্রকারগুলো সম্পর্কে বলবেন?

উত্তর : প্লাস্টিক বা প্লাস্টিকে তৈরি বর্জ্যই সব থেকে বেশি। এটা শুধু বাংলাদেশে নয়, পৃথিবীজুড়েই। পচনশীল আবর্জনা যে থাকে না তা নয়, তবে পচনশীল বলেই হয়তো একটা সময় পর আর দেখতে পাওয়া যায় না। কিন্তু প্লাস্টিক পচে না, তাই রয়ে যায়। আমাদের এখানে সব থেকে বেশি পাওয়া যায় খাবারের মোড়ক। তবে প্রতি বছর দুই ধরনের বর্জ্যের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয় প্রথম, দ্বিতীয় স্থান নিয়ে। সিগারেটের ফিল্টার পৃথিবীতে সব থেকে বেশি পাওয়া প্লাস্টিক-জাতীয় বর্জ্য। অনেকে হয়তো বলবেন, এটা তো পচনশীল। কথাটা অর্ধসত্য। এটাও প্লাস্টিক, যা মাটিতে দ্রুত মিশে যেতে পারে না। আমাদের এখানে সিগারেটের ফিল্টারকে ঠিক আবর্জনা হিসেবে ধরা হয় কি না সেটাই বলা মুশকিল। তার ওপর এটাকে প্লাস্টিকও বলতে হবে। আকারে ছোট হওয়ার কারণে একে আমরা অবহেলা বা না দেখে থাকার ভান করতে পারি। কিন্তু তাতে সত্যটা হারিয়ে যায় না বরং আড়াল হয়ে থাকে।আকারে ছোট হওয়ার কারণে এটাকে উপকূল বা অন্য কোনো জায়গা থেকে তুলে নিয়ে আসাও অনেকটা কঠিন। তাই আমাদের অভিজ্ঞতায় সিগারেটের ফিল্টারের সংখ্যা বেশি হলেও তুলে নিয়ে আসতে পারা বর্জ্যের মধ্যে খাবারের মোড়কই বেশি। সংখ্যার হিসাবে এ দুই জাতীয় বর্জ্য মোট সংগ্রহের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ। ওজনের দিক থেকে অন্য কিছু যেমন পিইটি বা পানি-জুস-তেলের বোতল ইত্যাদি।

আরও পড়ুনজয় বাংলা ইয়ুথ এওয়ার্ড ২০২৩ পেল সম্ভাবনা

প্রশ্ন : সাগর পরিচ্ছন্ন রাখতে কোন কাজগুলো জরুরি মনে করেন?

উত্তর : গণসচেতনতা। আমরা যদি শিশুর টিকাদান কর্মসূচি এতটা কার্যকর করতে পারি, তবে অন্য যেকোনো সমস্যাও সচেতনতার মাধ্যমে সমাধান করতে পারি। এখানে সরকারের একটা বড় ভূমিকা আছে। যেমন এ ধরনের কাজকে উৎসাহ দেওয়া। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী যারা, তারা বছরে এক দিনের জন্য হলেও এমন কাজে অংশগ্রহণ করতে পারেন। পাশের দেশ ভারতেই এমন উদাহরণ আছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সবারই স্বেচ্ছাসেবী অঙ্গসংগঠন আছে। তারাও মাসে একবার নিজ নিজ এলাকার খালবিল-নদীনালা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে পারে। এতে জনসাধারণের মধ্যে যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে তা অকল্পনীয়। এ সমস্যার গভীরতা ব্যাপক। সামাজিকভাবে এর সুরাহা করা না গেলে বিশদ আকারে এর সুফল পাওয়া অসম্ভব।

প্রশ্ন : আপনাদের এ কাজে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?

উত্তর : শিক্ষিত মানুষের আগ্রহ কম। এখানে শিক্ষিত বলতে আমি আসলে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া বা পড়ছেন এমন মানুষের কথাই বলছি। সে তালিকায় আমি, আপনি, আমাদের বাবা-মা, শিক্ষক, নেতা সবাই চলে আসেন। মূলত সম্পদ বা টাকা যার বেশি তার আগ্রহই মনে হয় সব থেকে কম, আবার আমরাই ভোক্তা পিরামিডের ওপরের দিকে। আরও সরল করে বললে কোনো কিছু পুনর্ব্যবহার করার অনাগ্রহ, প্লাস্টিক বর্জ্যের পরিমাণ এবং এর ব্যবস্থাপনা কঠিন করে ফেলে। আবার সামাজিকতার ভয়ে আমরা নিজেরাও খুব বেশি এগিয়ে আসি না। ধরে নিই পরিচ্ছন্নতা কর্মী তো আছেই, এটা তাদের কাজ। এ মনোভাব আদতে অসুন্দর।

9 Responses

  1. xoulac

    Hey guys, just found xoulac! Seems like a cool place to chill and watch some games. Anyone else checked it out? xoulac

  2. 2jl1

    Tried out 2jl1, it’s got some unique games. Nothing crazy, but keeps you entertained. You can find it here: 2jl1

  3. m8888e

    Been playing on M8888e, has a nice selection of games. It’s worth checking out: m8888e

  4. toma777casino

    Just wondering if anyone’s had any luck on toma777casino? The game selection looks solid, I’m trying to figure out if it’s worth my time. What do you think? See for yourself: toma777casino

  5. toma777

    Yo, gotta say, toma777 is looking pretty tempting. Site navigation rocks, which is always a plus. Thinking of making a deposit soon. What do you reckon? Here are The Details: toma777

  6. mangowin777

    Anyone had a go on mangowin777? Seeing some chatter online and wanna know if the payout rates are legit. Maybe some user data can help me make up my mind about it: mangowin777

  7. gold08game

    Yo, check out gold08game! Heard some buzz about it. Gonna give it a shot tonight, see what all the fuss is about. Wish me luck!

  8. ce88

    Alright guys, anyone tried ce88 yet? Thinking about jumping in, but wanted to get the real scoop before I drop any cash.

  9. s9gamedownloadapk

    Yo, downloading s9gamedownloadapk now. Hope it’s legit, heard some good stuff about the games available there. Fingers crossed!

Leave a Reply